বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, “আমাদের এত সংস্কারের দরকার হচ্ছে একটাই কারণে—স্বৈরাচারের সব পথঘাট বন্ধ করতে হবে, যাতে সে আর কোনোভাবেই বেরিয়ে আসতে না পারে।”
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশ বহু ত্যাগ, রক্ত ও আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে এসেছে। এখনকার আন্দোলন-সংগ্রামও জাতিকে নতুন জন্ম দেওয়ার পথ তৈরি করেছে। “এটা শুধু নির্বাচন নয়, জাতির নবজন্ম,” মন্তব্য করেন তিনি।
ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে রূপক হিসেবে আলাদিনের প্রদীপের উপমা টেনে বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতির হাতে এক দৈত্য এসে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো—আমরা তার কাছে এক কাপ চা চাইব, নাকি পুরো দুনিয়া পাল্টে দিতে চাইব? আমাদের হাতে এই সুযোগ এসেছে, ছোট কিছু চাইলে চলবে না; বড় স্বপ্ন দেখতে হবে।”
তিনি বলেন, নির্বাচনকে সার্থক করতে হলে সবার মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য দরকার। “দ্বিমতের কোনো জায়গা এখানে নেই। যখনই আমরা ঐকমত্যে পৌঁছব, কোলাকুলি করব—তখনই জাতির নবজন্ম নিশ্চিত হবে,” যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস আরও বলেন, “ঐক্যমত্য কমিশন একটি নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি করেছে। হয়তো আজ আমরা সবাই এর গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝতে পারছি না। কিন্তু আগামী বছর কিংবা দশ বছর পরে সবাই উপলব্ধি করবে আমরা কী মহাকাণ্ড ঘটিয়েছি।”
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ফেব্রুয়ারির শুরুতে এই নির্বাচন জাতির জন্য নতুন যাত্রার সূচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি। এখন শুধু সাইনবোর্ড বসানো বাকি। পথ পরিষ্কার, গন্তব্যও পরিষ্কার।”
ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, “এটা একমাত্র সুযোগ, জীবনে আর আসবে না। আলাদিনের সেই দৈত্য আর কখনও ফিরে আসবে না। তাই এ সুযোগ আমাদের হাতছাড়া করা চলবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সংস্কার করে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলব।”