ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশে হিমালয়ে প্রস্তাবিত একটি মেগাবাঁধ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন এবং কয়েকটি ভবনে অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উজানে চীনের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে এই বাঁধ নির্মাণের কথা ভাবছে ভারত।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু শনিবার সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত জলবিদ্যুৎ কোম্পানি এনএইচপিসির ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় শুক্রবার গভীর রাতে সহিংসতা শুরু হয়। তিনি বলেন, “উত্তেজিত জনতা অনেক সম্পত্তি নষ্ট করেছে, থানা ও এনএইচপিসির কার্যালয় ভাঙচুর হয়েছে, বেশ কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধির বাড়িতে তছনছ করা হয়েছে।” তাঁর হিসাবে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরের আঘাতে প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।
প্রকল্পের বিরোধীদের উদ্দেশে খান্ডু বলেন, “আমাদের প্রশ্ন করুন, আলোচনায় বসুন; সহিংসতার পথে যাবেন না।”
ভারত বলছে, তিব্বতে চীনের প্রায় ১৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের ইয়াশিয়া প্রকল্পের জবাবে এই বাঁধ দরকার। ওই চীনা প্রকল্প রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, চীনের প্রকল্প ভাটিতে পানিপ্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত ভারতীয় বাঁধে বিশাল জলাধার তৈরি হবে, যা ব্রহ্মপুত্র নদে পানিপ্রবাহ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। বেইজিং বলেছে, তাদের প্রকল্পের কোনো “নেতিবাচক প্রভাব” ভাটিতে পড়বে না।
ভারতের এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হতে যাওয়া এই বাঁধের তীব্র বিরোধিতা করছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী। তাদের আশঙ্কা, প্রকল্পে তারা ঘরবাড়ি ও জমি হারাবে। চীন অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে; ভারত এ রাজ্যকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড বলে জানায়।
এই প্রকল্প বিশ্বের দুই সর্বাধিক জনবহুল দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে সামনে এনেছে, যাদের বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে হাজার হাজার সেনা টহল দেয়। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্ত উত্তেজনা সামলাতে দুই পক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এর আগে ভারতের এক শীর্ষ সীমান্ত পুলিশ কর্মকর্তা শত্রুজিৎ কাপুর ভারতীয় ও চীনা বাহিনীর মধ্যে “মুখোমুখি অবস্থান” হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য, চীনা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত টহলরীতি থেকে সরে গেলে ভারত-চীন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে অস্থির হয়ে ওঠে।