দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপকরণ সহজে ছাপার সুযোগ তৈরি করতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের একটি দল ছোট আকারের ব্রেইল প্রিন্টার তৈরি করেছে। ‘সিঙ্ক রোবোটিকস’ নামের দলটির তৈরি যন্ত্রের নাম ‘সিঙ্ক ভি-১’। বিদেশের বাজারে প্রচলিত প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দামের ব্রেইল প্রিন্টারের বিকল্প হিসেবে এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ২৮ হাজার টাকা।
দলটির কাজ শুরু হয় চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহর পুরোনো ভাবনা থেকে। দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ তরফদার; সঙ্গে ছিলেন পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ইফাজ হোসেন এবং পুরকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের ইমাম রশিদ।
ব্রেইল পদ্ধতিতে কাগজের ওপর উঁচু বিন্দু তৈরি করে অক্ষর ও শব্দ লেখা হয়, যা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আঙুলের স্পর্শে পড়েন। প্রচলিত পদ্ধতিতে এসব বিন্দু তৈরি সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য; আধুনিক ব্রেইল প্রিন্টার আকারে বড় ও দামি হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে অনেকের পক্ষে কেনা সম্ভব হয় না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থ মিস্ত্রী জানান, অন্যরা পিডিএফ বা ওয়ার্ড ফাইল থেকে সহজে প্রিন্ট নিতে পারলেও তাঁর জন্য তা সহজ নয়।
অধ্যাপক আহসানউল্লাহ জানান, ২০০৫ সালের দিকে তিনি কম খরচে প্রিন্টার তৈরির কথা ভাবতে শুরু করেন। তখন তিনি এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ব্রেইল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, এই প্রিন্টার যেন প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এটি হবে বহনযোগ্য, আকারে ছোট এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য।’ কি-বোর্ডের শব্দ ও ভয়েস সুবিধা যুক্ত করার চিন্তাও ছিল, যাতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিজেই লেখা সম্পাদনা করে ছাপাতে পারেন।
তিনি আরও জানান, দেশে ব্রেইল বইয়ের প্রাপ্যতা সীমিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেদারল্যান্ডস সরকারের অনুদানে পাওয়া একটি ব্রেইল প্রিন্টার ছিল, কিন্তু সেটি আর সচল নেই বলে তিনি জানতে পেরেছেন। কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ব্রেইল বই আনে বা প্রয়োজনমতো তৈরি করে; সেসব মুদ্রণযন্ত্রের দাম কোটি টাকার বেশি। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্রেইল লেখা বা ছাপানোর সুযোগ বাংলাদেশে একদমই নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিঙ্ক ভি-১ ব্যবহার করতে হয় একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে, যেখানে বাংলা কিংবা ইংরেজিতে লেখা টাইপ করার সুবিধা আছে।