শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

ছয় বছর ধরে বন্ধ ভৈরব–ময়মনসিংহ রুটের লোকাল ও মেইল ট্রেন; ২২ স্টেশন প্রাণহীন, ভোগান্তিতে যাত্রী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

করোনাকালে বন্ধ হওয়া ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস ও দুটি লোকাল ট্রেন আর চালু হয়নি; আগস্ট থেকে নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসও মাসে মাত্র দুই-তিন দিন চলছে বলে জানা গেছে।

করোনা মহামারির সময় ২০১৯ সালের শেষ দিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেন চলাচল স্থগিত করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। পরে অনেক রুটে ট্রেন আবার চালু হলেও ব্যতিক্রম রয়ে গেছে ময়মনসিংহ–ভৈরব রেলপথ। এ রুটের মেইল ট্রেন ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস এবং দুটি লোকাল ট্রেন প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ। চালুর কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ভোগান্তিতে আছেন এ জনপদের সাধারণ মানুষ।

এর মধ্যে গত ২৪ আগস্ট থেকে ইঞ্জিন সংকট দেখিয়ে টাঙ্গাইল থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব হয়ে চট্টগ্রামগামী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসও বন্ধ করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি এখন নিয়মিত না চলে মাসে মাত্র দুই-তিন দিন চলে। ১১৬ কিলোমিটার রেলপথের ঈশ্বরগঞ্জ, নীলগঞ্জ, বাজিতপুর, নান্দাইল, সরারচর, হালিমপুর, কুলিয়ারচর, গৌরীপুর ও ভৈরবের কালিকাপ্রসাদসহ অন্তত ২২টি স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল পড়ে আছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, লোকাল ট্রেনে সর্বনিম্ন ভাড়া পাঁচ টাকা, মেইল ট্রেনে ১৫ টাকা। ময়মনসিংহ–ভৈরব রুটে লোকাল ট্রেনে ভাড়া ৪০ টাকা, মেইল ট্রেনে ৫৫ টাকা, আর আন্তঃনগর ট্রেনে ১২৫ টাকা। স্বল্প আয়ের মানুষেরা বলছেন, বাসভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় কম খরচে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল লোকাল ট্রেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি স্টেশনে থামার সুবিধায় এসব ট্রেনে দুধ, ডিম, কলা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন পণ্য কম খরচে বাজারে পাঠানো যেত। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াতকারী রোগীরাও বিপাকে পড়েছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাসের তুলনায় ট্রেনযাত্রা অনেক বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। তবে কারও কারও দাবি, প্রত্যাশামতো যাত্রী না পাওয়া ও বিনা টিকিটে ভ্রমণের কারণেই সেবা বন্ধ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন স্টেশন মাস্টার জানান, করোনার অজুহাতে এসব ট্রেন বন্ধ হয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও কেন চালু হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ তাঁদের জানা নেই; রেল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবেও কিছু জানায়নি। যাত্রী ও স্থানীয় সুধীজন ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস, নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসসহ বন্ধ ট্রেনগুলো দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন।