নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বালু নদের ওপর সেতুর নির্মাণকাজ ২৩ বছরেও শেষ হয়নি। কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে এলাকাবাসী নানা কর্মসূচি পালন করলেও এতে কোনো ফল মেলেনি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের অধীনে মাঝিনা-কায়েতপাড়া-ত্রিমোহনী সড়কে বালু নদের ওপর সেতু নির্মাণের দরপত্র ডাকা হয়। ২০০৩ সালে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সীমানাবর্তী কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকায় ৭৫ দশমিক ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর কাজ শুরু হয়। তখন ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।
প্রথম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হোসেন বলেন, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে মাত্র ৫০ লাখ টাকা তোলা গেছে, এরপর আর বরাদ্দ মেলেনি। এর মধ্যে সিমেন্ট, রড, বালু ও পাথরের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজ থমকে যায়।
২০২১ সালে অসমাপ্ত সেতুর জন্য দ্বিতীয় দফায় দরপত্র ডাকা হয় এবং প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একটি যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান কাজ পায় এবং ওই বছরের মে মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে সে কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুটি পিয়ার, পিয়ারের কলাম, ক্যাপ, এক পাশের উইংওয়াল ও অ্যাবাটমেন্ট দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে। সংযোগ সড়কের অবস্থা বেহাল; সলিংয়ের ইট উঠে গেছে। ব্যবহৃত রডে মরিচা ধরে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, সেতুটি নির্মাণ খুবই জরুরি। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, নতুন উদ্যমে পরিকল্পনা হচ্ছে। সেতু হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হতো, যানজট ও দূরত্ব কমত। একটি সেতুর অভাবে রূপগঞ্জসহ আশপাশের লাখো মানুষকে ১২-১৩ কিলোমিটার ঘুরে ঢাকায় যেতে হয় বলে তিনি জানান। ১৬ এপ্রিল তিনি জাতীয় সংসদেও কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি তোলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ গত ২৭ মার্চ সেতুর কাজের সর্বশেষ অবস্থা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সেতুটি ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট কমাতে ভূমিকা রাখবে এবং কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।