বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী: জ্বালানিতে ৫ হাজার কোটি ইয়েনের জরুরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা, পাঁচ বছরে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। চলমান জাপান সফরকে তিনি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, বৈঠকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি দুই নেতা নিজেদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ভাষায়, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এই অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করা।

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন, প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন। মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে সহযোগিতা, ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করা দ্রুতগতির রেল সংযোগ এবং আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামোর অধীনে বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিগ-বি) উদ্যোগ এগিয়ে নিতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।

বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে কথা হয়। তারেক রহমান বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগ চায়।

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়। প্রধানমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি ও জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনেও জাপানের সহযোগিতা চান; এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। বৈঠক শেষে তাঁর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।