সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলার কথা নিশ্চিত করেনি। ভবনটিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবরও এখন পর্যন্ত কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি।
হুথিদের দাবি
দৈনিক ইনকিলাবের খবর অনুযায়ী, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি আরবের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়।
সারির দাবি অনুযায়ী, রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবন ছাড়াও লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর জ্বালানি স্থাপনা, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল হামলার লক্ষ্য। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইও বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এই চার স্থাপনায় হুথিদের হামলার দাবির খবর দিয়েছে।
সৌদি ও জোটের বক্তব্য
রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা ইয়ানবুর আরামকো স্থাপনায় হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার কথা নিশ্চিত করেছে তারা। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাতে আরব নিউজ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার ওই হামলায় একজন সৌদি নাগরিক ও একজন ভারতীয় নিহত এবং আটজন আহত হন। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
এদিকে ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাঁচটি ড্রোন এবং এর আগে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির বরাতে রিয়াদ ও মদিনার আকাশে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা বলা হয়েছে।
কয়েক বছরের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর গত জুলাইয়ে ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে শুরু হয়। এরপর থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে বারবার হামলা হচ্ছে। সৌদি আরব এই উত্তেজনা উসকে দেওয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে। রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা সর্বশেষ এই হামলাকে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।