বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

পাকিস্তানে আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসীদের ওপর সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা

সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তান সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়েছে।

পাকিস্তান সম্প্রতি আফগান সীমান্তের কাছে খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসীদের ওপর সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। এই হামলা আসে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার পর। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিগুলো। এছাড়াও, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক স্থল অভিযানও চালানো হয়েছে, যেখানে ৩৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের এই অভিযানে ২৮ জন সন্ত্রাসী এবং কয়েকজন আত্মঘাতী বোমারুও ধ্বংস হয়েছে। বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সরকার সূত্রে জানা যায়, আফগানিস্তানভিত্তিক ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান যেটি সংক্ষেপে আইএমপি নামে পরিচিত, খাইবার পাখতুনখোয়ায় অস্থিরতা সৃষ্টির পিছনে মূল ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ জাতিসংঘে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান দেশটির নিরাপত্তার ব্যাপারে আত্মরক্ষা করবে এবং প্রয়োজনে কঠিন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, যতদিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হবে, ততদিন শান্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। শুক্রবারের কোহাটের পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে ২৩ জন ব্যক্তি প্রাণ হারান। এই সন্ত্রাসী হামলায় কতিপয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়েছে বলে জানানো হয়। পাকিস্তান সরকার এই ঘটনার পর একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানায়, এই অভিযান প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা। সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ চেষ্টা করছে যাতে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে দেশটি মুক্ত হতে পারে এবং শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। আত্মরক্ষার জন্য পাকিস্তান প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং তারা শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য দায়বদ্ধ, এমনটি উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ। তিনি জাতিসংঘে বক্তব্য রাখার সময় এই মন্তব্য করেন।