বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ; কারণ জানায়নি পুলিশ

শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে মহাখালীর একটি টেলিভিশন কার্যালয় থেকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে; ডিবির এক কর্মকর্তা বলছেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে রাজধানীর মহাখালীর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয় থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরের পর এ ঘটনা ঘটে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী বিকেলে ওই কার্যালয়ে যাওয়ার পর সেখানে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে সেই পরিস্থিতি এড়াতে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। শফিকুল ইসলাম আরও জানান, সেখান থেকে আরও দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

তবে কী কারণে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট মামলা রয়েছে কি না কিংবা তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কিছু প্রতিবেদনে তাঁকে ‘আটক’ করার কথা বলা হলেও পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনার কথাই এসেছে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের একজন। ১৯৭২ সালে একটি ইংরেজি দৈনিকে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়; পরে তিনি ওই দৈনিকের সম্পাদক হন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একটি অংশের সভাপতি এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। ২০১৩ সালে তাঁকে শেখ হাসিনার তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়; ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সম্মানী ও খণ্ডকালীন গণমাধ্যম উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফেনী সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে জয়ী হতে পারেননি।

এর আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে গঠিত টাস্কফোর্স তাঁকে ডেকে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদের ফল কী দাঁড়ায় বা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, তা পরিস্থিতির অগ্রগতি দেখে জানা যাবে।