সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ নারীর সবুজ ব্যবসায় এফএওর ৪ লাখ ৪৭ হাজার ডলারের সহায়তা

রোববার ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মধ্যে দুটি প্রকল্পের নথি সই হয়েছে; প্রকল্প নথিতে বলা হয়েছে, দেশে উৎপাদিত শাকসবজির ৩০ শতাংশের বেশিতে বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ মাত্রাতিরিক্ত।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বালাইনাশক ব্যবহার ও অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে এবং গ্রামীণ নারীদের পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসায় যুক্ত করতে বাংলাদেশকে মোট ৪ লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। রোববার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এফএওর মধ্যে দুটি প্রকল্পের নথি সইয়ের মাধ্যমে এ সহায়তার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি নথিতে সই করেন।

ইআরডি জানায়, ‘স্ট্রেংদেনিং ক্যাপাসিটিস ফর লাইফসাইকেল ম্যানেজমেন্ট অব পেস্টিসাইডস’ শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদ চার বছর এবং এতে ব্যয় হবে ২ লাখ ডলার। এফএও-চীন দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় এতে অর্থায়ন করছে চীনের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ইথিওপিয়া, ঘানা, জর্ডান ও কিরগিজস্তান এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। প্রকল্পের আওতায় বালাইনাশক-সংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ, ডিজিটাল নিবন্ধনব্যবস্থা চালু ও নিয়মকানুনের প্রয়োগ জোরদারে সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার গবেষণাগারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষকদের নিরাপদ ব্যবহারে সচেতন করার উদ্যোগ থাকবে।

প্রকল্প নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত শাকসবজির ৩০ শতাংশেরও বেশিতে অতিরিক্ত মাত্রায় বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়। গত ১০ জুন ইআরডিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর এফএও প্রকল্পের নথি সংশোধন করে। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকল্পের টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবে, বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)।

দ্বিতীয় উদ্যোগ ‘গ্রিন রুটস উইমেনস ফার্ম ল্যাবস’ ২৪ মাস মেয়াদি একটি উপ-কর্মসূচি, যা বাংলাদেশ ও উগান্ডায় পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়িত হবে। এতে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ৪৭ হাজার ডলার। এফএওর ‘ফার্মার ফিল্ড স্কুল’ পদ্ধতির ওপর গড়ে ওঠা এ উদ্যোগে গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি সরবরাহ এবং অর্থায়ন ও বাজারের সঙ্গে সংযোগে সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সারা বাংলা কৃষক সোসাইটি এর জাতীয় অংশীদার। ‘আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬’–এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এফএওর প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি বলেন, নিরাপদ কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা গড়তে এবং গ্রামীণ নারীদের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারকে সহায়তা করতে পেরে সংস্থাটি আনন্দিত। ইআরডির জাতিসংঘ অনুবিভাগের উইং চিফ এ কে এম সোহেল জানান, বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে এফএও এ পর্যন্ত ৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রকল্প দুটি নিরাপদ খাদ্য, জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন; সুফল যাতে কৃষক ও গ্রামীণ নারীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে ইআরডি সমন্বয় বজায় রাখবে।