ওয়ানডে অভিষেকের দিনটাই বিষাদে ঢেকে গেল আলিস আল ইসলামের। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে বাংলাদেশের এই অফস্পিনারের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে রিপোর্ট করেছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
আইসিসি জানিয়েছে, বুধবারের ওই ম্যাচ নিয়ে ম্যাচ অফিসিয়ালদের প্রতিবেদনে ২৯ বছর বয়সী এই স্পিনারের অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অবৈধ বোলিং অ্যাকশন-সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী এখন আইসিসি স্বীকৃত কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে তাঁর অ্যাকশনের স্বাধীন মূল্যায়ন হবে।
এরপর কী
আইসিসির বিধিমালায় বলা আছে, বিশেষ কোনো পরিস্থিতি না থাকলে খেলোয়াড়ের জাতীয় বোর্ড নোটিশ পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পরীক্ষার যাচাইকৃত প্রতিবেদন বোর্ডের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত আলিস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে এই সময়ে মাঠের আম্পায়াররা চাইলে তাঁর ডেলিভারিকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারবেন।
নিজের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিংয়ে নিষেধাজ্ঞা পাবেন তিনি। আর পরীক্ষায় অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হলে অ্যাকশন শুধরে আবার পরীক্ষায় উতরানো পর্যন্ত বোলিং করা যাবে না।
পরীক্ষা কোথায় হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দৈনিক নয়া দিগন্তকে বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বোর্ড বিষয়টি জানতে পারে, পরে আইসিসিও তাদের জানায়। তাঁর কথায়, ‘আলিসেরটা চেন্নাইতে হতে পারে। এখনো সময় জানা যায়নি।’
পুরোনো সমস্যা ফিরে এল
আলিসের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন এবারই প্রথম নয়। ২০১৯ সালে বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি, সেই মৌসুমেই প্রথমবার তাঁর অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ২০২৫ সালের বিপিএলেও একই সন্দেহ প্রকাশ করেন আম্পায়াররা। নয়া দিগন্তের খবর অনুযায়ী, দুবারই পরীক্ষা দিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছিলেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘রহস্যময় স্পিনার’ হিসেবে পরিচিত আলিস এ মাসের শুরুতে এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ক্যাপ পান। ওয়ানডে অভিষেকে ৮.৩ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি তিনি। ম্যাচটি ৭ উইকেটে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। ২৩ অক্টোবরের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।