দেবী দুর্গার আদলে তৈরি নিজের একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে ২২টি ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য দিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শারদীয় দুর্গোৎসবে তাঁর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সেখানে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তর্ক।
মণ্ডপে যা বলেছিলেন
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূজার সময় নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রুমিন ফারহানা। ডেইলি স্টার জানিয়েছে, তিনি আশুগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি মণ্ডপে যান।
এলাকায় ১০১টি পূজা হওয়াকে নিজের সৌভাগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে এত পূজা হয়, ‘সেখানে মায়ের কৃপা থাকে বেশি’। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য আলাদা শাড়ি জমিয়েছেন জানিয়ে পূজাকে তিনি ‘সবারই প্রাণের উৎসব’ বলে বর্ণনা করেন। উৎসব যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ম্লান না হয়, তা নিশ্চিত করাকে সবার নাগরিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নয়া দিগন্ত লিখেছে, অনেক মণ্ডপে তাঁকে প্রতিমার সামনে হাতজোড় করে প্রণাম করতে দেখা যায়। এসব ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও শুরু হয়।
দেবীর আদলে ছবি ও ‘২২ বচন’
এর মধ্যে রুমিন ফারহানাকে আট হাতের দেবী দুর্গার রূপে দেখিয়ে তৈরি একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ছবিটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, কেউ একজন ‘বিভাজন আর ঘৃণা উসকে দিতে’ এটি বানিয়ে ছড়িয়েছে। ডেইলি স্টার ও ইত্তেফাকের খবরে বলা হয়েছে, তাঁর দাবি, ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।
এরপর যাঁরা অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোকে ধর্মবিশ্বাসের পরিপন্থী মনে করেন, তাঁদের উদ্দেশে ২২টি বাক্য লেখেন তিনি। প্রায় প্রতিটির শেষে ছিল ‘ধর্ম যায় না’। ঘুষ, খুন, শিশু নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা, প্রতারণা, খাদ্যে ভেজাল বা বোনের সম্পত্তির হিস্যা আত্মসাতেও ধর্ম যায় না বলে কটাক্ষ করেন তিনি। শেষ বাক্যে লেখেন, ‘ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।’
পোস্টের শেষে ছবির ভুল ধরিয়ে তিনি লেখেন, ‘মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না।’ সঙ্গে জুড়ে দেন, ‘মূর্খের সমাজ, কী আর করা।’
ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ঘৃণা ছড়াতে এআই-ছবি ব্যবহার শুধু তাঁর জন্য নয়, সব ধর্মের মানুষের জন্য অবমাননাকর। তাঁর ভাষায়, ‘একটা মানুষকে দেবী বানানো সব ধর্মের জন্য অবমাননাকর।’
বিভক্ত প্রতিক্রিয়া
নয়া দিগন্ত জানিয়েছে, মণ্ডপ পরিদর্শন, বক্তব্য ও ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ একে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন সামনে এনে তাঁর সমালোচনা করছেন।