রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

দাউদকান্দিতে চিকিৎসক নেই: চার মাসের বেশি বন্ধ প্রসূতি অস্ত্রোপচার, ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারও অচল

কুমিল্লার দাউদকান্দির সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসকের ৬০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩০ জন।

চিকিৎসকের অভাবে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার মাসের বেশি সময় ধরে প্রসূতি অস্ত্রোপচার বন্ধ আছে। উপজেলার সরকারি হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের ৬০টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৩০ জন। জনবলের অভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসাও দেওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা চলে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দোনারচরের ২০ শয্যার হাসপাতাল, শহীদনগরের ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টার, ছয়টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে। এসব প্রতিষ্ঠানের ৬০টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৫টি শূন্য, ১২ জন সংযুক্তিতে অন্যত্র কর্মরত এবং তিনজন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। ফলে এখন কাজ করছেন ৩০ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৫টি পদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ছয়টি, জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের একটি, সহকারী সার্জনের একটি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের একটি পদ দীর্ঘদিন শূন্য। কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৬০ থেকে ৮০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। চিকিৎসক ও নার্সের সংকটে প্রতিদিনই বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্রসূতি) সুস্মিতা সাহা গত ১৪ জুন বদলির আদেশ পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে যান। এরপর থেকে প্রসূতি চিকিৎসকের পদ শূন্য। অবেদনবিদের পদেও ২০২২ সাল থেকে কেউ নেই। চশই গ্রামের গৃহবধূ তাকিয়া আক্তার গত মাসে অস্ত্রোপচারের জন্য গিয়ে বিশেষজ্ঞ না পেয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতে বাধ্য হন। নলচর গ্রামের মোমেনা আক্তার (৩০) ১ অক্টোবর একই কারণে ফিরে এসে আঙ্গাউড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করান। এতে তাঁর খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা।

স্বপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনটি ১৯৬১ সালে নির্মিত, ২০০৪ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২০ সালের ২৯ মে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে চিকিৎসা সহকারী ও কয়েকজন রোগীর ওপর পড়ার পর থেকে সেখানে সেবা বন্ধ। আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ এখন প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের কমপ্লেক্সে যেতে বাধ্য হন। গৌরীপুর বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে পাশের আকবর আলী খান কারিগরি কলেজের একটি কক্ষে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবনটি তালাবদ্ধ দেখে অনেক রোগী ফিরে যান বলে স্থানীয়রা জানান।

শহীদনগরের ট্রমা সেন্টারটি ২০০৬ সালে প্রথমবার এবং ২০১০ সালে আবার উদ্বোধন করা হলেও দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য পরিকল্পিত জরুরি সেবা চালু হয়নি। সেখানে পদায়ন করা একমাত্র আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মূলত জ্বর, সর্দি ও কাশির রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। নার্সদেরও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার রোগীদের কমপ্লেক্স অথবা ঢাকায় যেতে বলা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, প্রসূতি ও অবেদনবিদসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একাধিক পদ শূন্য এবং নিয়োগের জন্য তিনি প্রতি মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠাচ্ছেন। কুমিল্লার সিভিল সার্জন মো. জহিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসক ও নার্সদের বিষয়ে অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর ঢাকায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করে বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।