বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীর পবায় হুমকিতে বন্ধ সারের ডিলারের দোকান পুলিশের উপস্থিতিতে খুলল

হরিয়ান বাজারে চাঁদাবাজির মামলায় দুই নেতা কারাগারে যাওয়ার পর অনুসারীদের হুমকিতে বন্ধ হওয়া বিসিআইসি ডিলারের দোকান মঙ্গলবার সকালে আবার চালু হয়েছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান বাজারে হুমকির মুখে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি সারের দোকান মঙ্গলবার সকালে পুলিশের উপস্থিতিতে আবার খুলেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হকের নির্দেশে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোকান খোলেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অনুমোদিত ডিলার সাইদুর রহমান। পরে সংসদ সদস্য মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।

সাইদুর রহমান হরিয়ান বাজারের সাইদুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে হরিয়ান বাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। চলতি বছরের ৫ এপ্রিল কৃষকদের কাছে সরবরাহের জন্য নেওয়া ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার পথে আটকে দেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রজব আলী ও যুবদল নেতা আব্দুস সালাম। তখন তাঁদের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে মামলা করেন সাইদুর রহমান। সেই মামলায় সোমবার আদালতের মাধ্যমে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর পরই তাঁদের অনুসারীদের হুমকির মুখে সাইদুর রহমান দোকান বন্ধ করে দেন।

সাইদুর রহমান জানান, দোকান বন্ধ রাখার হুমকির বিষয়টি তিনি সংসদ সদস্য শফিকুল হক, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন তাঁকে ফোন করে দোকান খুলতে বলেন। এরপর বিএনপির নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় তিনি দোকান খোলেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সার বিক্রি শুরু হয়।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন বলেন, সারের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় আগের দিন নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল এবং কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন। পরে সংসদ সদস্যের নির্দেশে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ডিলারকে দোকান খোলার বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়। তিনি আরও বলেন, সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মানতে হবে এবং কৃষকেরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে ডিলারকে সতর্ক থাকতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে হরিয়ান বাজারে গিয়ে দোকানটি প্রথমে বন্ধ দেখা যায়। প্রতিদিন সকাল আটটায় দোকান খোলেন সাইদুর রহমান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রজব আলীর অনুসারীরা ঝামেলা করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তিনি দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই দোকানের পাশে পুলিশ অবস্থান নেয়।

কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, ডিলারের করা মামলায় সোমবার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দোকানের সামনে ঝামেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ ছিল না বলে জানান তিনি। ওসির ভাষ্য, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।