রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

ইরানে হামলা ‘হয়তো আগামীকালই’, আবার ‘বড় ও সুন্দর’ চুক্তিও সম্ভব: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তেহরান চুক্তি করলে নতুন সামরিক পদক্ষেপ এড়ানো যাবে; তবে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানে ‘আগামীকালই’ হামলা চালাতে পারে। আবার তেহরানের সঙ্গে একটি ‘বড় ও সুন্দর’ চুক্তি হলে সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোও সম্ভব। শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি। হয়তো আগামীকালই।’ পরে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের বলে দেব যে হামলা চালাতে যাচ্ছি কি না?’

ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, ‘কিন্তু সমস্যা হলো—তারা কি সেই চুক্তি মেনে চলবে?’ তাঁর মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। অতীতে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী ফল নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, ‘আমাকে এটি স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বেড়েছে, যদিও এর পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান তিনি দেননি। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হয়তো আমাকে এর পুরোপুরি অবসান ঘটাতে হবে, অথবা তারা চুক্তি করবে। তবে আমি নিশ্চিত নই। যেভাবেই হোক, জয় আমাদেরই।’

মার্কিন কর্মকর্তা ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বরাতে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি এগোচ্ছে। সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র অভিযানের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনী মহড়া বাড়িয়েছে, এর মধ্যে ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে বিমান উড্ডয়নের মহড়াও আছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার সমঝোতা হলেও সংঘাতের স্থায়ী অবসান এখনো হয়নি।