বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

ভাড়া নিয়ে বিরোধে নারায়ণগঞ্জ সাইলো থেকে খাদ্যশস্য পরিবহন পাঁচ দিন ধরে ব্যাহত

ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে ট্রাকশ্রমিকেরা পরিবহন বন্ধ রাখায় সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো থেকে চাল-গম সরবরাহে বিঘ্ন, ঠিকাদারেরা বলছেন দরপত্রের বাইরে বাড়তি ভাড়া দেওয়া সম্ভব নয়।

পরিবহন ভাড়া নিয়ে ট্রাকশ্রমিক ও ঠিকাদারদের টানাপোড়েনে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত সাইলো খাদ্যগুদাম থেকে চাল-গমসহ সরকারি খাদ্যশস্য পরিবহন পাঁচ দিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে সরকারি খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।

বিরোধের মূলে ভাড়া

শ্রমিকদের ভাষ্য, জ্বালানির দাম ও গাড়ি চালানোর আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ায় চলতি ভাড়ায় খাদ্যশস্য বহন করা তাদের পক্ষে আর পোষাচ্ছে না। তাই তারা ভাড়া সমন্বয়ের দাবি তুলেছেন এবং দাবি মানা না হলে পরিবহনে অংশ নিতে আগ্রহী নন।

বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও মিনি ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাইলো শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান লিপু জানান, তারা যৌক্তিক হারে ভাড়া সমন্বয় চেয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান এবং শ্রমিকদের ‘ন্যায্য দাবি’ মেনে নিয়ে পরিবহন স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান তিনি।

ঠিকাদারদের অবস্থান ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, সরকারি দরপত্রে যে দর ও বাজেট ঠিক করা আছে, তার বাইরে বাড়তি ভাড়া দেওয়ার সুযোগ তাদের নেই।

‘উসকানির’ অভিযোগ ঠিকাদার নেতার

কেন্দ্রীয় খাদ্য সরবরাহ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল হাই রাজুর অভিযোগ, একটি ‘কুচক্রী মহল’ শ্রমিকদের উসকে দিয়ে সরকারকে বিব্রত করতে চাইছে। সাইলোকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করা এবং পরিবহন স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সাইলোর অধীক্ষক রিয়াজুল আলমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রথমে কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে কার্যালয়ের সামনে থেকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি; একবার ফোন ধরলেও ব্যস্ততার কথা বলে লাইন কেটে দেন বলে জানিয়েছে আমার দেশ।

পুলিশ বলছে বিকল্প গাড়িতে সরবরাহ চলছে

তবে পরিস্থিতির আরেকটি দিক তুলে ধরেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম। তার ভাষ্য, শ্রমিক সংগঠনের গাড়িতে পরিবহন এখনো বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারেরা বাইরে থেকে গাড়ি এনে সরবরাহ চালু রেখেছেন। শ্রমিকেরা চান তাদের এজেন্টের মাধ্যমে গাড়ি দেওয়া হোক, আর ঠিকাদারদের যুক্তি, বাইরে কম ভাড়ায় গাড়ি মিললে এজেন্টের ওপর নির্ভর করার দরকার নেই।

এসআই শাহ আলম আরও জানান, বাইরের গাড়ি ঢুকতে কেউ বাধা দিচ্ছে না এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।