সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মানবিক সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে দুর্ঘটনাজনিত কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা করা যাবে না—সড়ক নিরাপত্তা আইন-২০২৬ (খসড়া)-এ এমন ‘গুড সামারিটান’ সুরক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে। আহত ব্যক্তির মৃত্যু হলেও সৎ উদ্দেশ্যে সহায়তাকারীকে দায়ী করা যাবে না বলে খসড়ায় বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়, আহত ব্যক্তির প্রাণ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পুলিশি ঝামেলা, মামলা কিংবা আদালতে হাজিরার আশঙ্কায় অনেক সময় সাধারণ মানুষ আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে চান না। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, আইনি জটিলতার ভয়ে সাধারণ মানুষ যাতে পিছিয়ে না যান, সে জন্য কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান বলেন, মানবিক কারণে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা দিলে তা মানুষকে উদ্ধারকাজে উৎসাহিত করতে পারে।
বর্তমানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬২ ধারায় দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোটরযানের চালক, কন্ডাক্টর বা তাঁদের প্রতিনিধির ওপর দুর্ঘটনার খবর নিকটস্থ থানায় জানানো এবং আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কমিউনিটি ভলান্টিয়ার ও অ্যাম্বুলেন্স টিম গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া আহত ব্যক্তিকে উপযুক্ত হাসপাতালে নেওয়া এবং গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।