মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

ঝালকাঠির পিপি হায়দার হোসেন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক বেল্লাল হোসেনের আত্মসমর্পণ; আদালতের নির্দেশে কারাগারে

২০০৭ সালে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত সরকারি কৌঁসুলি হায়দার হোসেন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের একজন বেল্লাল হোসেন সোমবার ঝালকাঠির আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের তৎকালীন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হায়দার হোসেন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বেল্লাল হোসেন (৪০) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দৈনিক ইনকিলাব এ খবর দিয়েছে; পত্রিকাটির কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিপি আক্কাস শিকদার।

ইনকিলাব জানায়, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে তিনি পলাতক ছিলেন। ২০২০ সালে হাইকোর্টের রায়ের খবরে প্রথম আলো তাঁর নাম লিখেছিল মো. বিল্লাল হোসেন এবং তখনই তাঁকে পলাতক বলে উল্লেখ করেছিল। আত্মসমর্পণের সময় তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন কি না বা তিনি কোনো আবেদন করেছেন কি না, প্রতিবেদনে তা জানানো হয়নি।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

ইনকিলাব ও প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল এশার নামাজ শেষে ঝালকাঠির গোরস্থান মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন হায়দার হোসেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝালকাঠির আলোচিত দুই বিচারক হত্যা মামলায় তিনি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন। ঘটনার পরদিন নিহতের ছেলে ঝালকাঠি থানায় হত্যা মামলা করেন।

রায় ও উচ্চ আদালত

২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আব্দুল হালিম এ মামলার রায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মুরাদ হোসেন, আবু শাহাদাত মো. তানভীর ওরফে মেহেদি, আমিনুল ওরফে আমির হোসেন, মো. বিল্লাল হোসেন ও সমীর হোসেন ভূঁইয়া। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তাঁদের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলা হয়েছিল।

মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে যায়; পাশাপাশি তিন আসামি আপিল ও একজন জেল আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০২০ সালের ১ মার্চ বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নুরুদ্দীনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল খারিজ করে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ তখন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আদালত অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে মনে করেছেন। হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে মামলাটির অবস্থা কী, ইনকিলাবের প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

দণ্ডপ্রাপ্ত একজনের পরিবারের দাবি

দণ্ডপ্রাপ্তদের একজন মুরাদ হোসেনের পরিবার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছিল, এ মামলায় রিমান্ডে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। সমকালের সে সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারটি মামলার পুনঃতদন্ত দাবি করেছিল। ওই প্রতিবেদনে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বা রাষ্ট্রপক্ষের কোনো বক্তব্য ছিল না।