রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স—বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দুই প্রধান উৎসেই প্রবৃদ্ধি থাকলেও দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সামগ্রিক চিত্রে স্বস্তি আসছে না। আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বড় হচ্ছে, বেড়েছে চলতি হিসাবের ঘাটতিও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্টের জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬-২৭ সময়ের প্রাথমিক হিসাব আগের অর্থবছরের একই সময়ের সংশোধিত হিসাবের সঙ্গে তুলনা করলে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৫৭১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৭৪৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় ছিল ১ হাজার ১০৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ ৭৭ কোটি ১০ লাখ ডলার বেশি। অন্যদিকে পণ্য আমদানির ব্যয় ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৫৩ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা রপ্তানি আয়ের বৃদ্ধির তিন গুণেরও বেশি।
প্রবৃদ্ধির হারের হিসাবে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৭ শতাংশ, আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। এই ব্যবধানই ঘাটতি বাড়ার প্রধান কারণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি বৃদ্ধি সব সময় নেতিবাচক নয়। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন উপকরণ আমদানি বাড়লে ভবিষ্যতে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়তে পারে। কিন্তু আমদানির বড় অংশ যদি ভোগ্যপণ্য বা এমন খাতে যায়, যেখান থেকে দ্রুত বৈদেশিক আয় আসে না, তাহলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়।