বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

কুষ্টিয়া–ঈশ্বরদী সীমানার পদ্মায় চরদখল নিয়ে কাকন ও কালু বাহিনীর চার ঘণ্টা গোলাগুলি, তখন চলছিল ইলিশ রক্ষার অভিযান

হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি; রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার বলছেন, এলাকা দুর্গম ও জনবল কম, শিগগির বড় পরিসরে অভিযান হবে।

পদ্মা নদীর বালুচর দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা–সংলগ্ন পদ্মায় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় চলে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

গোলাগুলির সময় ওই এলাকার কাছাকাছি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের উদ্যোগে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চলছিল। অভিযানে নৌ পুলিশসহ জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। গোলাগুলির একটি ভিডিও বুধবার সকাল থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মহানগর ট্যাগ এলাকার বাসিন্দারা নদীর ভেতর থেকে কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনেন। কিছুক্ষণ পর শব্দ বাড়তে থাকলে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সে সময় কয়েকটি স্পিডবোটকে দ্রুত নদীতে চলাচল করতে দেখা যায়। বেলা আড়াইটার দিকে সদর উপজেলা প্রশাসনের একটি দল মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে সেখানে যায়। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার বলেন, নৌকায় উঠতেই তিনি একাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান। এরপর নিরাপত্তাসহ অভিযান চালানো হয়। তিনি একটি স্পিডবোট দেখেছেন; তাঁর গাড়ির চালক তিন–চারটি স্পিডবোট দ্রুত যেতে দেখেছেন। অভিযানের সময় নদীতে মাছ ধরার কোনো নৌকা চোখে পড়েনি বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কুষ্টিয়া অংশে পদ্মা–গড়াইয়ের মোহনায় কাকন বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। অন্যদিকে ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চরের কলাবাগানে অবস্থান নেন কালু বাহিনীর সদস্যরা। দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এর আগে মোহনাটি কালু বাহিনীর দখলে ছিল; এবার কাকন বাহিনী ওই এলাকার দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে তাঁরা জানান। স্থানীয় মাঝি নয়ন বলেন, কাকন বাহিনী প্রথমে একটি ট্রলারে করে লোকজন নিয়ে এসে গুলি শুরু করে; বিকেল চারটার দিকে তাদের বহরে আরও দুটি নৌকা যোগ হয়।

ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, দুই বাহিনীর মধ্যে অনেকক্ষণ গোলাগুলি হয়েছে এবং সন্ধ্যায় গুলির শব্দ বন্ধ হয়েছে। এলাকাটি রাজশাহী নৌ পুলিশের আওতাধীন। রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, এলাকাটি দুর্গম এবং তাঁদের জনবল খুব কম। লক্ষ্মীকুণ্ডা ফাঁড়িতে মাত্র ১১ জন সদস্য আছেন, যাঁদের চারজন মৎস্য অভিযানে ছিলেন। তিনি জানান, খুব শিগগির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যদের নিয়ে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে।