শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মৃত্যু: শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের তিন দিন পর লরিচালক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নগরের পাঁচলাইশ থেকে চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় লরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার যে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, তার তিন দিনের মাথায় এই গ্রেপ্তার হলো।

সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে সীতাকুণ্ড থানা ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি যৌথ বিশেষ দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এখন থানা হেফাজতে আছেন এবং তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এসআই জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজ উদ্দিন স্বীকার করেছেন, দুর্ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি লরির একটির চালক ছিলেন তিনি। রিয়াজ নোয়াখালী সদর থানার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৩ নভেম্বর সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরায় আইআইইউসির প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় একটি মিনিবাস উল্টে যায়। বাসের নিচে চাপা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ সহপাঠীরা নিরাপদ সড়ক ও দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি তোলেন; এর মধ্যে ছিল লরিচালক ও মালিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।