সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ; সৌদি সিভিল ডিফেন্স বলছে, হতাহতের খবর নেই

শনিবার ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে প্রতিহত করার পর পশ্চিম সৌদির কয়েকটি এলাকায় ধ্বংসাবশেষ পড়েছে; মক্কা-মদিনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। শনিবার সৌদি সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মুখপাত্র এ তথ্য জানান। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার সময়ই আকাশে ধ্বংস করা হয়।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র জানান, ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ পড়েছে মক্কার ওয়াদি মুগাম্মাসে, যা মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এ ছাড়া জেদ্দার আল-নুজহা এলাকা, তায়েফের ওয়াদি জালিল এবং রাবিগ গভর্নরেটের মাশতুরায় ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। বিবৃতিতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। হামলার আগে মক্কাসহ পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে সম্ভাব্য ঝুঁকির সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল।

হুথিদের বক্তব্য

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, শনিবারের শুরুতে রিয়াদ, তায়েফ ও ইয়ানবুর দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেছেন, শুক্র ও শনিবার তাঁরা সৌদি আরবের তিনটি বিমানবন্দর, দুটি তেল স্থাপনা, একটি তেল পাইপলাইন ও একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছেন। তিনি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মাম ও নাজরানের বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটির নাম উল্লেখ করেন। তবে মক্কা-মদিনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা।

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, শনিবার হুথিরা দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

সাম্প্রতিক হামলার পটভূমি

সৌদি কর্তৃপক্ষ ও জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবে বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক স্থানে হামলা বাড়িয়েছে হুথিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হয় ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যাতে ১৩ জন নিহত ও ৩০০–এর বেশি মানুষ আহত হন। সৌদি আরবের সিনিয়র স্কলারস কাউন্সিল গত সপ্তাহে এসব হামলাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে গুরুতর আগ্রাসন বলে নিন্দা জানিয়েছে।