যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করেছেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুতিনের সঙ্গে তার কথা হবে।
ট্রাম্প বলেন, “পুতিন জানেন আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন একভাবে বা অন্যভাবে। যদি আমরা তার সিদ্ধান্তে খুশি না হই, তবে ঘটনা ঘটতে দেখবেন।”
এর আগে চীন সফর শেষে পুতিন জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে মস্কোতে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিয়েছেন। পুতিন বলেন, “ডোনাল্ড আমার কাছে এমন বৈঠকের অনুরোধ করেছেন। আমি বলেছি—হ্যাঁ, সম্ভব। জেলেনস্কি যদি মস্কোতে আসেন, তাহলে সাক্ষাৎ হতে পারে।” তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন বৈঠকের বাস্তবিক কোনো মূল্য আছে কি না।
পুতিন আরও যোগ করেন, যদি সমঝোতা না হয়, তবে রাশিয়া তার লক্ষ্য সামরিকভাবেই পূরণ করবে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, অন্তত সাতটি দেশ এমন বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে এবং জেলেনস্কি যেকোনো সময় প্রস্তুত। তবে তার ভাষায়, “পুতিন সবাইকে নিয়ে খেলা করছেন। শুধু চাপ বাড়ানোই রাশিয়াকে সিরিয়াস আলোচনায় বাধ্য করতে পারে।”
এদিকে জেলেনস্কি জানান, তিনি বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
আল জাজিরার মস্কো প্রতিনিধি বলেন, পুতিন মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে সচেতন এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের দাবি মেনে নেবে না।
হোয়াইট হাউসের সংবাদদাতা জানান, সম্ভাব্য আলাপের ধারাবাহিকতা হতে পারে—প্রথমে “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং”–এর সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক, এরপর জেলেনস্কির ট্রাম্পকে ফোন, তারপর ট্রাম্প–পুতিন আলাপ।