সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট সোমবার (৬ অক্টোবর, ২০২৫) ঘোষণা করেছে যে, মানব ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড র্যামসডেল এবং শিমন সাকাগুচিকে ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে। এই তিন গবেষকের কাজ "পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স" নিয়ে, যা ইমিউন সিস্টেমকে শরীরের নিজের কোষের ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখে।
ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক মারি ওয়াহরেন-হারলেনিয়াস বলেন, "এই গবেষণা ইমিউন সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় নিয়ে কাজ করে, যাতে আমরা বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি এবং একই সঙ্গে অটোইমিউন রোগ এড়াতে পারি।"
পুরস্কারের মোট পরিমাণ ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনর (প্রায় ১.১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা তিনজন গবেষক সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। মেরি ব্রাঙ্কো এবং ফ্রেড র্যামসডেল, উভয়েই ৬৪ বছর বয়সী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, এবং শিমন সাকাগুচি, ৭৪ বছর বয়সী, জাপানের নাগরিক। সুইডেনের রাজা তাদের স্বর্ণপদক প্রদান করবেন।
নোবেল কমিটির চেয়ার ওল্লে কাম্পে বলেন, "তাদের কাজ ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।" গবেষণাটি ১৯৯৫ সালে শুরু হয়, যখন সাকাগুচি প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এরপর ২০০১ সালে ব্রাঙ্কো এবং র্যামসডেল আরেকটি বড় সাফল্য অর্জন করেন, এবং ২০০৩ সালে সাকাগুচি তাদের সবার কাজকে একত্রিত করেন।
নোবেল কমিটির সেক্রেটারি-জেনারেল থমাস পার্লম্যান বলেন, "আমি সাকাগুচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ এবং এই সম্মানকে অসাধারণ বলে বর্ণনা করেছেন।"
এই পুরস্কারের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কারের বার্ষিক ঘোষণার সূচনা হলো, যা বিজ্ঞান, সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত। আগামী দিনগুলোতে বাকি পুরস্কারগুলোর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।