রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

পুঠিয়ায় গুদামে ৫৫৩ বস্তা ‘নষ্ট’ টিএসপি সার, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসীর ঘেরাও; রাসায়নিক পরীক্ষার উদ্যোগ

বানেশ্বর ইউনিয়নের একটি গুদামে ভেজা ও জমাট বাঁধা সার গুঁড়া করার ভিডিও ফেসবুকে ছড়ানোর পর প্রশাসন তালা খুলে ৫৫৩ বস্তা সার পেয়েছে।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় একটি গুদামে ৫৫৩ বস্তা নষ্ট ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার রয়েছে—এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর গুদামটি ঘিরে রাখেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের বালিয়াঘাটা সোনারপাড়া গ্রামে একটি বাড়িসংলগ্ন গুদামে।

খবর পেয়ে শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে যান পুঠিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রসনজিৎ সাহা। তাঁর উপস্থিতিতে গুদামের তালা খোলা হলে ৫৫৩ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সার আনার পর থেকেই এলাকার লোকজন নজর রাখছিলেন। জমাট বাঁধা সার গুঁড়া করার দৃশ্য কেউ একজন কৌশলে ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সার ভেজা এবং বেশির ভাগই জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে গেছে; একজন হাতুড়ি দিয়ে তা ভাঙছেন।

রোববার বিকেলে পুঠিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, এই সারের কোনো কার্যকারিতা আছে কি না তা নিশ্চিত হতে রাসায়নিক পরীক্ষা দরকার। কাজে লাগার মতো হলে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে, না হলে সার ধ্বংস করা হবে। নমুনা পরীক্ষার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। এই ৫৫৩ বস্তা সার এখন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় আছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে এসব সার আনা হয়। সারের মালিক মাইনুল ইসলাম বানেশ্বর বাজারে মুদিদোকান চালান এবং স্থানীয় এক ব্যক্তির গুদাম ভাড়া নিয়ে সার রেখেছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার মাইনুলের বরাত দিয়ে জানান, মাইনুল সারের ডিলার নন এবং সার আনার কোনো আইনগত বৈধতা তাঁর নেই। কৃষি অফিসকেও তিনি বিষয়টি জানাননি। মাইনুলের দাবি, পুকুর ও বাগানে ব্যবহারের জন্য তিনি সার এনেছেন।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একটি রসিদে ‘ডেলিভারি চালান, ভেজা/নষ্ট পণ্য’ কথাটি লেখা দেখা গেছে। সহকারী কমিশনার ঘটনার রাতে স্থানীয়দের জানান, মামলা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাইনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।