বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

এলপিজির কমিশন দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব আমদানিকারক ও পরিবেশকদের, বিইআরসির গণশুনানি চলছে

দেড় মাস ধরে বাজারে অস্থিরতার মধ্যে ১২ কেজির সিলিন্ডারে আমদানিকারকেরা সর্বোচ্চ ৪৭৮ টাকা, পরিবেশকেরা ১৫০ টাকা ও খুচরা বিক্রেতারা ৭০ টাকা কমিশন চেয়েছেন।

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে দেড় মাস ধরে অস্থিরতা চলছে। সরবরাহ-সংকটের সুযোগে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগে চাপে পড়েছেন ভোক্তারা। এর মধ্যেই কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। এ প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার বিয়াম মিলনায়তনে গণশুনানি শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিইআরসিতে জমা দেওয়া আবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারে বর্তমান কমিশন ১৯১ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। এটি বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ আমদানিকারকেরা বর্তমান কমিশন দুই থেকে আড়াই গুণ বাড়াতে চান।

পরিবেশকেরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার আবেদন করেছেন। পরিবহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাবও এসেছে।

শুনানিতে বলা হয়, দেশে সক্রিয় ৩৫টি কোম্পানির মধ্যে এলপিজি আমদানির অবকাঠামোগত সক্ষমতা আছে ২৩টির। গত মাসে আমদানি করেছে মাত্র ১০টি কোম্পানি। মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগে জাহাজভাড়াসহ প্রিমিয়াম ছিল টনপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ ডলার, যা এখন ২৫০ থেকে ৪০০ ডলারে ঠেকেছে; পরিচালন খরচও বেড়েছে। তাঁর মতে, সব বিবেচনায় এমন দাম নির্ধারণ করা উচিত, যাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে এক টাকাও বেশি কেউ নিতে না পারে।

এর আগে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকির মুখে তড়িঘড়ি করে গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল; সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর ১৪ অক্টোবর সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়, আর সেদিনই গণশুনানির ঘোষণা আসে। দেশে এলপিজির বাজারের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের হাতে। শুনানি শেষে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে তাকিয়ে আছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।