মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ফ্লোরিডার এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন, ইরানের যুদ্ধ নিষ্পত্তি হলে সেখান থেকে ফেরার পথে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ কিউবার কাছে থামবে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোর্ট মায়ার্সে প্রায় ৯০ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, 'আমরা ইরান থেকে ফেরার পথে কিউবার বিষয়টি দেখব। একটু থামব।' তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি জাহাজ উপকূল থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে থামবে, 'তারা হাত তুলবে', তারপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো হবে চুক্তি চূড়ান্ত করতে। রুবিও ফ্লোরিডার সাবেক সিনেটর এবং কিউবা-সংক্রান্ত বিষয় তিনিই মূলত দেখছেন।
সমাবেশের কিছু পরই রুবিও এক্সে লেখেন, 'কিউবায় যাঁরা ইতিবাচক পরিবর্তন চান, তাঁদের জন্য এখনই সময়।' আনাদোলুর উদ্ধৃতি অনুযায়ী তিনি আরও লেখেন, ব্যর্থ প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতি এবং হাতে গোনা কয়েকজনের সুবিধাভোগী জীবনে হতাশ মানুষ যেন 'সিআইএর সঙ্গে গোপন অংশীদারির মাধ্যমে' কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের এই সুযোগ কাজে লাগান।
বক্তৃতায় ইরান প্রসঙ্গেও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা 'নিশ্চিহ্ন' করার দাবি করেন এবং বলেন, 'আমরা আরেকটি ছোট এপিক ফিউরি করতে পারি, অথবা তারা রাজি হবে।' টিআরটি লিখেছে, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকানরা চাপে রয়েছে এবং ট্রাম্প এ নিয়ে আরও সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া যুদ্ধ যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারকের পরও নিষ্পত্তি হয়নি বলে আনাদোলু জানিয়েছে।
টিআরটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ফ্লোরিডায় কিউবান-আমেরিকান ভোটারদের ৬৮ শতাংশের সমর্থন পেয়েছিলেন ট্রাম্প। সমাবেশটি ছিল ফ্লোরিডার গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী বাইরন ডোনাল্ডসের পক্ষে। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প কিউবাকে 'ব্যর্থ রাষ্ট্র' বলেছিলেন; তখন কিউবার প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ ত্যাগ করে। টিআরটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধে কিউবায় জ্বালানিসংকট ও লোডশেডিং বেড়েছে, আর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছেন।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি ও আনাদোলুর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই খবর লেখা হয়েছে; কিউবা সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনগুলোতে নেই।