সংবিধান সংশোধনে অংশ নিতে আবারও বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানালো সরকার
বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ কথা জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকার সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বিরোধী দলকে আবারও আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিরোধীরা যদি অংশ নেয়, তাহলে তাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে। রবিবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, সাকিলা ফারজানা এবং মো. মাহমুদ উল হক রুবেলসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত, প্রস্তাব ও পরামর্শ দেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ জোর দিয়ে বলেছেন, “আমরা বারবার বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। আমরা এখনও তাদের আহ্বান জানাচ্ছি—যখনই তারা এই কমিটিতে যোগ দেবেন, আমরা তাদের স্বাগত জানাবো। তাদের বক্তব্য ও প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারি না। আমরা বারবার তাদের প্রতি আহ্বান জানাতে পারি এবং আমরা আশা করি তারা অংশ নেবেন। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে এবং সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনা করতে চাই।” সরকারের লক্ষ্য হলো, বিভাজন এড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজটি সম্পন্ন করা।
সময়সীমা সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিলটি আনা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের প্রথম সংসদীয় অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন করা সম্ভব হতে পারে। বিলটি প্রথমে সংসদে পাস হবে এবং তারপর সংবিধানের যে সকল অনুচ্ছেদ সংশোধনের জন্য গণভোটের প্রয়োজন হয়, সেগুলোর জন্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে সাধারণ গণভোট ও সাংবিধানিক গণভোটের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করেন। যদি জনগণ এর পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করবেন।
কমিটির কাজের প্রাথমিক ভিত্তি হলো জুলাই জাতীয় সনদ। তবে, নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের কাছে করা প্রতিশ্রুতিগুলোও সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ প্রণয়নের সময় বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে, যে সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন, যেমন—সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি, সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কারণে এসব বিষয় সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ অগ্রাধিকার। তবে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যে সকল বিষয়ে আমরা ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলোও আমরা অন্তর্ভুক্ত করব।”
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ সাংবাদিক সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অনেকেই লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকরা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ এবং জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। বিভিন্ন পেশার অংশীজনদের সাথে মতবিনিময়ের পর তাদের মতামত সম্বলিত একটি প্রতিবেদন ও পুস্তিকা প্রস্তুত করা হবে, যা মূল কমিটির প্রতিবেদন থেকে আলাদা থাকবে।