শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

পবার হরিয়ানের তেঁতুলতলা বাজার: শতবর্ষী তেঁতুলগাছের নামেই পরিচয়, ইটভাটার ধোঁয়ায় কমছে ফলন

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের বাজারটির দোকানের ফাঁকে ছড়িয়ে আছে বিশাল গাছ; স্থানীয়দের ধারণা, গাছটির বয়স ১০০ বছরের বেশি।

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারের পরিচয় জড়িয়ে আছে একটি প্রাচীন তেঁতুলগাছের সঙ্গে। দূর থেকেই চোখে পড়ে বাজারের ওপর ছড়িয়ে থাকা সবুজ ডালপালা। কোনো ডাল ঢুকে পড়েছে দোকানের ভেতরে, কোনোটি ছুঁয়েছে ছাদ।

গাছটির বয়স কত, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন না কেউ। স্থানীয়দের ধারণা, বয়স ১০০ বছরের বেশি; এ ধারণার ভিত্তি পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শোনা কথা। স্থানীয়দের ভাষ্য, গাছের নাম থেকেই বাজারের নাম হয়েছে তেঁতুলতলা। বাজারটির বয়স চার দশকের বেশি। একসময় এখানে বসতি ও দোকান ছিল কম, প্রথম দিকে ছিল মাটির দোকান; ধীরে ধীরে দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। একসময় গাছটির চারপাশে ছিল জঙ্গল, সময়ের সঙ্গে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও বসতি। গাছের গোড়া এখন ইট দিয়ে বাঁধানো।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজিদের বয়স প্রায় ৯০ বছর। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই গাছটিকে দেখছেন। গাছের তেঁতুল বিক্রি করা হয় না। স্থানীয় বাবু মণ্ডল (৬৫) বলেন, যার যত ইচ্ছা এই গাছ থেকে তেঁতুল পেড়ে খেতে পারেন। ছোটবেলায় গাছে উঠে তেঁতুল পাড়ার স্মৃতিও তাঁর মনে আছে। তিনি জানান, রাজশাহীতে কোথাও তেঁতুলতলা বাজারের কথা বললে মানুষ জায়গাটি চিনতে পারে।

চা-দোকানি মো. মজদুলের (৫০) দোকানের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে গাছের একটি ডাল। তিনি ১৩-১৪ বছর ধরে সেখানে দোকান করছেন। মজদুল বলেন, দোকান নির্মাণের অনেক আগে থেকেই ডালটি ওই জায়গায় ছিল, তাই তা কাটা হয়নি; পরে আশপাশে দোকান ও ভবন গড়ে উঠেছে। গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখা ও শুকনো ডাল সরানোসহ গাছের যত্ন স্থানীয় লোকজনই নেন। রাতে গাছের ডালে বকসহ নানা পাখি এসে বসে।

আগে গাছটিতে প্রচুর তেঁতুল ধরত, এখন ফলন কমে গেছে। স্থানীয় কেউ কেউ এর জন্য আশপাশের ইটভাটার ধোঁয়াকে দায়ী করছেন। মজদুল বলেন, এলাকার আশপাশে ২৪টি ইটভাটা আছে এবং ভাটার ধোঁয়ায় গাছের পাতা ঝরে পড়ে। তাঁর ভাষ্য, শুধু এই গাছ নয়, এলাকার আম-কাঁঠালসহ অন্য গাছের ফলনও কমে গেছে। দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে গাছটি দেখতে বাজারে আসেন। স্থানীয়দের চাওয়া, গাছটি যেন বছরের পর বছর এভাবেই ছায়া দিয়ে যায়।