গাইবান্ধায় চুরির অপবাদ দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ওই নারীর ছেলে বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেছেন।
ছড়িয়ে পড়া ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, নারীর দুই হাত ও দুই পা গাছের সঙ্গে বাঁধা। শার্ট ও লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি গাছের চিকন ডাল দিয়ে তাঁকে পেটাচ্ছেন। প্রতিটি আঘাতের পর নারী চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। পাশ থেকে একজনকে তাঁর পায়ের বাঁধন আরও শক্ত করতে বলতেও শোনা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনাটি ২ নভেম্বরের। গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ওই নারীর বিরুদ্ধে ছাগল ও সেচপাম্পের মোটর চুরির অপবাদ তুলে তাঁকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে পেটানো হয়। লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঠিক কী চুরির অপবাদে নারীকে পেটানো হয়েছে, তা জানা যায়নি; তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে নারীকে দেখে এসেছেন।
ঘটনার পর বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ আসিফ জানান, নারীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; তিনি খাওয়া-দাওয়া করছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের বিছানা থেকে ওই নারী নিজেও বলেছেন, তিনি কোনো দোষ করেননি, তবু তাঁকে গাছে বেঁধে মারা হয়েছে।
মামলার এজাহারে একই গ্রামের সাদা মিয়া (৩৫) ও আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, ওই নারী মানসিক রোগী; ২ নভেম্বর সকালে সাদা মিয়া কাজের কথা বলে তাঁকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। দুপুরে সাদা মিয়ার বাড়ি থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। নারীর ছেলে বলেছেন, তিনি ঘটনার বিচার চান। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি নাজমুল হুদা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাদা মিয়া গা-ঢাকা দিয়েছেন এবং তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।