সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় খাসিয়ামারা নদীর আলিপুর-টেংরাটিলা এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে নির্মাণাধীন একটি সেতু কার্যত কাজে আসছে না। সেতুর মূল কাজ চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে শেষ হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) তৈরি হয়নি। ফলে লোহার পাটাতন বেয়ে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় উঠে সেতু পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ মিটার চেইনেজে ৭৫ মিটার পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাটে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, টেংরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নুর উচ্চবিদ্যালয়সহ আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে সেতুটি অবস্থিত। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী লোহার পাটাতন বেয়ে সেতুতে ওঠানামা করে। এ ছাড়া হাটবাজার এবং উপজেলা ও জেলা শহরে যেতে নদীর দুই পারের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ একই পথ ব্যবহার করেন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন বয়স্ক ও স্কুলপড়ুয়ারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, সেতু এখন উল্টো বিড়ম্বনার কারণ। স্টিলের মই বেয়ে উঠে আবার মই দিয়ে নামতে হয়। আগে নদীর দুই পারের মানুষ নৌকায় মালপত্র, সাইকেল ও মোটরসাইকেল পার করতেন; সেতু হওয়ার পর খেয়ানৌকা বন্ধ হয়ে গেছে।
দোয়ারাবাজার এলজিইডির নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, ঠিকাদারের খামখেয়ালিতে কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল; বন্ধ না থাকলে আরও দুই বছর আগেই সেতুর কাজ শেষ হতো। অভিযোগ নিয়ে ঠিকাদার শংকর বাবুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আবদুল হামিদ নিজ দপ্তরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, পাইলিং সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ হলে সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে।