শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

দুই অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলে কনটেইনার পরিবহন কমেছে ৩২.৪ শতাংশ, ইঞ্জিন ও লোকবলের সংকটের কথা বলছে রেলওয়ে

২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৮০ হাজার ৭১৯টি কনটেইনার রেলে গেলেও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৫৪ হাজার ৫৬৯টিতে।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন ধারাবাহিকভাবে কমছে। সবশেষ দুই অর্থবছরে এ পরিবহন কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে রেলওয়ের অংশ বাড়ানোর উদ্যোগ থাকলেও পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে ৮০ হাজার ৭১৯টি কনটেইনার পরিবহন করা হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৬৩ হাজার ১০০টিতে, অর্থাৎ এক বছরে কমে ১৭ হাজার ৬১৯টি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা আরও কমে ৫৪ হাজার ৫৬৯টিতে নেমে আসে, যা আগের বছরের চেয়ে ৮ হাজার ৫৩১টি কম। দুই অর্থবছর মিলিয়ে কমেছে ২৬ হাজার ১৫০টি বা ৩২.৪ শতাংশ। চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের মাত্র ২ শতাংশ রেলপথে হয়, যা মূলত বন্দরের অভ্যন্তর থেকে পরিবহন করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) রেলপথে কনটেইনার আনা হয়। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে কমলাপুর আইসিডিতে ৫৩ হাজার ৩৪৪ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল; চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে ৪১ হাজার ৬২৭ টিইইউতে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ২২ শতাংশ কম। টিইইউ হলো ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কনটেইনারের সমতুল্য একক।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান জানান, সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বন্দর থেকে কনটেইনার পরিবহনের চেষ্টা চলছে এবং প্রতিদিন ৬০০টির বেশি কনটেইনার পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে চাহিদার পুরোটা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ইঞ্জিন ও লোকবলের সংকট দূর করা গেলে পরিবহন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় পণ্য পরিবহন বাড়লে রেলপথের চাহিদাও বাড়তে পারে। এ লক্ষ্যে ‘গ্রিন রেলওয়ে ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রিপারেশন ফ্যাসিলিটি’ প্রকল্পের আওতায় বন্দরের টার্মিনালগুলোর সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত; এর ভৌত অগ্রগতি এখন মাত্র ২১ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬.৬১ শতাংশ।