রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মণ্ডলের বিরুদ্ধে দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার এবং সারের ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পুনর্বাসনসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন। আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহী নগরের অলকার মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব অভিযোগ করেন।
‘রাজশাহী-৫ আসনের ভুক্তভোগী বিএনপির নেতাকর্মী’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার সরকার আল-আমীন, বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী এবং সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংসদ সদস্য সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁর সঙ্গে পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আরেক আওয়ামী লীগ কর্মী ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, এমপি পুঠিয়া-দুর্গাপুরের বেশির ভাগ সরকারি পুকুর আওয়ামী লীগের একজন অর্থদাতাকে দিয়ে চাষ করাচ্ছেন এবং সারের ডিলার নিয়োগে এমন লোকজনকে সহায়তা করেছেন, যাঁদের তাঁরা ‘ফ্যাসিবাদ ও রাজাকার ঘরানার’ বলে অভিহিত করেছেন। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটিতেও পরিবারের সদস্য কিংবা বিরোধী মতাদর্শের লোকজনকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা বলেন, সরকারি ও দলীয় অনুদান এবং উন্নয়নকাজের থোক বরাদ্দ কোথায় কীভাবে খরচ হয়, তা দৃশ্যমান নয়; এ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় দুর্গাপুর পৌর ছাত্রদল ও যুবদলের চারজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দেলোয়ার সরকার আল-আমীন অভিযোগ করেন, গত ১৩ আগস্ট বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের একটি পারিবারিক ঘটনায় তাঁকেসহ বিএনপির নয়জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যদিও তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ১১ অক্টোবর দলের আরও চার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও তাঁরা জানান। তাঁদের অভিযোগ, এসব মামলার পেছনে সংসদ সদস্যের চাপ রয়েছে এবং পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম সহযোগিতা করছেন। তাঁরা ওসির প্রত্যাহার, মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযোগ তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বিকেলে মুঠোফোনে নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, যাঁরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাঁরা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করেননি; বরং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন এবং তখন থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিং করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ওই দুজন শিক্ষক হিসেবে গিয়েছিলেন, দলীয় পরিচয়ে নয়। মামলার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, তিনি কারও বিরুদ্ধে মামলা করেননি; ফেসবুকের পোস্টে কেউ আঘাত পেয়ে মামলা করতেই পারেন। এ বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং ওসিকেও কিছু বলেননি।