গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবারও থেমে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। উৎপাদন শুরুর দুই দিনের মাথায় রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় কারখানার সব কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারখানা ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ১ জুলাই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা যমুনা সার কারখানা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন। এর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার। চালু রাখতে ৪২ পিএসআই চাপের গ্যাস লাগে।
গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস পেয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি নেয়। গত মঙ্গলবার রাতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হলেও প্রয়োজনীয় চাপ ছিল না; ৩৮ থেকে ৩৯ পিএসআই চাপে উৎপাদন শুরু হয়, যা পরে কমে ২৬ থেকে ২৭ পিএসআইয়ে নেমে আসে। উৎপাদন শুরুর ৪৩ ঘণ্টার মাথায় বয়লারে লিকেজ দেখা দিলে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়। মেরামতের পরও কম চাপের কারণে উৎপাদনে ফেরা যায়নি। গত শুক্রবার সকালে উৎপাদন আবার শুরু হলেও রোববার ভোরে গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পেয়ে তাঁরা উৎপাদন শুরু করেছিলেন। কিন্তু তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করায় কারখানা আবার বন্ধ হয়ে গেছে।
এই কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলার সার উত্তোলন করেন। যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় পরিকল্পিতভাবে নিম্নমানের সার আমদানি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এই আশঙ্কার পক্ষে কোনো প্রমাণ বা সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।