২০০৬ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) গ্রহের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করে। নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো মহাজাগতিক বস্তু গ্রহ হতে হলে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে—
১. সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে হবে,
২. নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণে প্রায় গোলাকার আকার ধারণ করতে হবে,
৩. নিজের কক্ষপথ থেকে অন্য বস্তু সরিয়ে দিতে হবে (অর্থাৎ ‘neighborhood’ পরিষ্কার করতে হবে)।
প্লুটো প্রথম দুটি শর্ত পূরণ করলেও তৃতীয় শর্তে ব্যর্থ হয়, কারণ এটি কুইপার বেল্টে অন্যান্য বরফময় বস্তু ও মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে কক্ষপথ ভাগ করে নিচ্ছে। এর ফলেই প্লুটোকে ‘বামন গ্রহ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিশ্বব্যাপী অসংখ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী এবং মহাকাশপ্রেমী প্রতিবাদ জানায়। অনেকেই মনে করেন, এই সংজ্ঞা অতিমাত্রায় কঠোর এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের বাস্তব বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে।
প্লুটোর মর্যাদা পুনর্বিবেচনার দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে নাসার “নিউ হরাইজনস” মিশনের আবিষ্কার। ২০১৫ সালে এই মহাকাশযান প্লুটোর নিকটবর্তী অঞ্চলের অসাধারণ ছবি ও তথ্য পাঠায়। এতে দেখা যায়—প্লুটোতে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি, প্রবাহমান বরফ নদী, এমনকি সম্ভাব্য ভূগর্ভস্থ সমুদ্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত রয়েছে। এ ধরনের ভূতাত্ত্বিক ও জলবায়ুগত বৈচিত্র্য অনেকের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রহের মর্যাদার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ।
তবে IAU-এর সমর্থকরা বলছেন, গ্রহের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রয়োজনীয়, যাতে সৌরজগত ও অন্যান্য নক্ষত্রমণ্ডল অধ্যয়নে স্পষ্টতা বজায় থাকে। তাদের মতে, যদি প্লুটোকে আবার গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে কুইপার বেল্ট ও অন্যান্য অঞ্চলের অনেক বস্তুকেই গ্রহের তালিকায় যুক্ত করতে হবে, যা বিভ্রান্তি তৈরি করবে।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গবেষণা ফোরামে ‘Pluto should be a planet again’ আন্দোলন চলছে। বৈজ্ঞানিক মহলে এখনো এ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ—তবে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে প্লুটো এখনো নবম গ্রহ হিসেবেই অটুট অবস্থান ধরে রেখেছে।
আপনার মত কী—প্লুটো কি আবার গ্রহ হওয়া উচিত?