এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি, দুই সূচকেই শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী জেলা। বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪০ শতাংশই এই জেলার। তবে বোর্ডের সার্বিক ফল হতাশাজনক; পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৪ হাজার ৫২০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার ১ হাজার ৭৮৫ জন, যা মোট জিপিএ-৫-এর প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বগুড়ায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩০৯ জন, তৃতীয় পাবনায় ৫৫০ জন।
পাসের হারে রাজশাহী জেলায় ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বগুড়ায় ৫৩ দশমিক ৬৪ এবং জয়পুরহাটে ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। রাজশাহী জেলা থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন ২৮ হাজার ৮৬ জন, পাস করেছেন ১৫ হাজার ৫৪০ জন।
বোর্ডে এবার নিবন্ধন করেছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন, পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। পাস করেছেন ৬১ হাজার ৮৯৪ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬২ জন। আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। ছেলেদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, মেয়েদের ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া ৪ হাজার ৫২০ জনের মধ্যে মেয়ে ২ হাজার ৫৫৫ জন, ছেলে ১ হাজার ৯৬৫ জন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বোর্ডের মাত্র নয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন, আর ৩৯টি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফল তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৬০, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৪৬, ২০২৪ সালে ৮১ দশমিক ২৪ ও ২০২৫ সালে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। করোনার সময় ২০২০ সালের অটোপাসের পর এবারই বোর্ডের পাসের হার সবচেয়ে কম। ফল নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছেন, সেভাবেই নম্বর পেয়েছেন।