গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নতুন করে প্রাণ হারালেন অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনি। স্থানীয় মেডিকেল সূত্র জানায়, শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৬ জন গাজা সিটির বাসিন্দা, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা ও স্থল অভিযান জোরদার করেছে।
গাজা সিটিতে পালিয়ে যাওয়া মানুষের ওপরও হামলা চালানো হয়। নাসর এলাকায় একটি ট্রাকে চড়ে দক্ষিণে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন কয়েকজন ফিলিস্তিনি। ওই সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে রক্তাক্ত লাশ।
এর আগে সকালে আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু সালমিয়ার পারিবারিক বাড়িতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে তার ভাই, ভাবি ও তাদের সন্তানরা নিহত হন। আবু সালমিয়া এএফপিকে বলেন, “আমি জরুরি বিভাগে কাজ করছিলাম। হঠাৎ খবর এলো আমার প্রিয়জনেরা শহীদ হয়েছেন। এখন আর কিছুই অবিশ্বাস্য নয়।”
হামাস এ ঘটনাকে চিকিৎসকদের আতঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছে। সংগঠনটির দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৭০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন এবং আরও ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনী শুধু বিমান হামলাই নয়, বরং বিস্ফোরকভর্তি রোবটও ব্যবহার করছে, যা পুরো এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানায়, আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ গাজা সিটি ছেড়ে পালিয়েছে।
কিন্তু দক্ষিণে আশ্রয় নেওয়া মানুষের অবস্থা ভয়াবহ। চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স জানায়, আল-মাওয়াসি এলাকায় পানির সংকট, স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং ন্যূনতম অবকাঠামো না থাকায় হাজারো মানুষ তীব্র দুর্ভোগে পড়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধ বন্ধের দাবি তুলেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ের চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সরকারপক্ষ বলছে, এসব বিক্ষোভ “রাষ্ট্রবিরোধী” এবং ইসরায়েলের শত্রুদের কাজে লাগছে।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে হামলা বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।