খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর দুই স্থানীয় নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার পানিগাতী গ্রামে এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হামলার প্রতিবাদ জানায় এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার বেলা দেড়টার দিকে একদল লোক প্রথমে উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সম্পাদক তাসনিম হাসানের বাড়িতে এবং পরে একই গ্রামের জামায়াত নেতা ও ইউপি সদস্য আজিজুর রহমানের বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় আজিজুর রহমানের বড় ছেলে ও ওয়ার্ড জামায়াতের নেতা আহসানুল হককে ধাওয়া করা হয়। তাসনিম হাসানের বড় ভাই মেহেদী হাসানকে (৪৬) মারধর করা হলে তিনি আহত হন; তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা বাড়ির নারী ও শিশুদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আহসানুল হক অভিযোগ করেন, ২৬ অক্টোবর দুপুরে এম সাইফুর রহমান মিন্টু ওরফে মিন্টু মোল্লার নেতৃত্বে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রধারী শতাধিক লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা গুলি ছোড়ে, ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং যুবক, শিশু ও নারীদের গায়েও হাত তোলে। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির দিঘলিয়া উপজেলা সভাপতি।
আহসানুল হকের অভিযোগ, তাঁর বাবা আজিজুর রহমান জামায়াত মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা বেশি। এ কারণে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, তাঁরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং হামলার মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
দিঘলিয়া থানার ওসি অরূপ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিকভাবে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়েছে এবং কিছু ভাঙচুরও হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।