রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ১৪ নম্বর আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও পুলিশের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার্সের একটি পরিত্যক্ত ভবনের সামনে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে চারজনকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে ২৪৫টি ইয়াবা, ১২৯ পুরিয়া হেরোইন, দুটি বাটন মুঠোফোন ও মাদক বিক্রির ১ হাজার ৫৪০ টাকা পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ আছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিতে তাঁদের স্বজনসহ ১২০ থেকে ১৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশি অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে জড়ো হন। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন ও গুলি চালান। এতে এসআই মোরশেদ আলী মোল্লার মাথায় জখম হয়; নায়েক ইমদাদুল হক লোহার রডের আঘাতে এবং এসআই আবু সালেহ মুসা মারধরের শিকার হয়ে আহত হন। এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
এসআরবি-১০–এর এএসআই (নিরস্ত্র) আ. আহাদ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এজাহারভুক্ত চার আসামি ছাড়াও ১২০–১৩০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, আহত তিন সদস্য পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এজাহারভুক্ত চার আসামি এখনো গ্রেপ্তার হননি এবং অভিযান চলছে।
এর আগে একই অভিযানের সময় কারখানাশ্রমিক মারুফের মৃত্যু হয়েছিল। কার গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং একটি মানবাধিকার সংগঠন স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অভিযুক্ত মাত্র; কারও বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়নি।