সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

সিটি গ্রুপের ঋণ এখনই খেলাপি না করার পরামর্শ বাংলাদেশ ব্যাংকের, ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধার কথাও বলা হয়েছে

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে এ পরামর্শ দেওয়া হয়; গ্রুপটির ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি না করার সময়সীমা শেষ হয়েছিল সেপ্টেম্বরে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ঋণ এখনই খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত না করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শিল্পগ্রুপটি যাতে সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃ তফসিলের সুবিধা দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রোববার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈঠকে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেন, ঋণদাতা কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী এবং সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান। ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পক্ষে সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক সিটি গ্রুপের ঋণ খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করে তা আদায়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। এর প্রেক্ষাপটে শনিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়, আর রোববারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত ও পরামর্শগুলো জানানো হয়।

এর আগে গ্রুপটির ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ব্যাংক গ্রুপটির ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ অবস্থায় আপাতত খেলাপি না করার পরামর্শ দেওয়া হলো। পাশাপাশি ব্যবসা চালু রাখতে গ্রুপটিকে মূলধন জোগান দিতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে একটি জোট গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের পর মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সিটি গ্রুপ আগে কখনো খেলাপি হয়নি এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। তাঁর ভাষ্য, এ কারণে সবাই চায় গ্রুপটি সমস্যা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াক এবং সব ব্যাংকই তাদের সহায়তা দিতে আগ্রহী।