রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

শীতের মৌসুমে পাবনার প্রায় ২ হাজার নারীর হাতে কুমড়া বড়ি, দেশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে বিদেশেও; কাঁচামালের দাম বাড়ায় লাভ কমছে

বেড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর ও সুজানগরের প্রায় ৫০টি গ্রামে আশ্বিন থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত চলে ঐতিহ্যবাহী এই খাবার তৈরির ব্যস্ততা।

শীতের খাবারে মাছ ও সবজির স্বাদ বাড়াতে কুমড়া বড়ির জুড়ি নেই। গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন পাবনার অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রায় দুই হাজার নারী কারিগর। আশ্বিন থেকে ফাল্গুন—শীতের ছয় মাস তাঁরা বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটান। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে জেলার এই পণ্য এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে, প্রবাসী বাঙালিদের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে বিদেশেও।

পাবনার বেড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর ও সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কুমড়া বড়ি তৈরি হয়। বেড়ার চরপাড়া ও দাসপাড়া, চাটমোহরের দোলং এবং ফরিদপুরের ডেমরা পালপাড়াসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের নারী-পুরুষ এ কাজে যুক্ত। পরিবারের দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে বড়ি তৈরি করে তাঁরা বাড়তি আয় করেন। অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবিকা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ এই আয় থেকে মেটে।

সরেজমিনে বেড়ার চরপাড়া গ্রামে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে সারি সারি বড়ি রোদে শুকানো হচ্ছে; নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরাও সহযোগিতা করছেন। অ্যাংকর, মটর, ছোলা ও মাষকলাই—এই চার ধরনের ডালের সঙ্গে পাকা চালকুমড়া, কালোজিরা, গোলমরিচসহ বিভিন্ন মসলা মিশিয়ে বড়ি তৈরি হয়। ভোরে প্রস্তুতি শুরু হয়, তারপর রোদে দুই-তিন দিন শুকালে তা বাজারজাতের উপযোগী হয়। ডাল ও উপকরণের ধরন অনুযায়ী দাম ঠিক হয়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বড়ি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় এবং খুচরায় ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফরিদপুরের ডেমরা ইউনিয়নের পালপাড়ার কারিগর চাম্পা রানী পাল বলেন, ডেমরার বড়ির এলাকায় বেশ সুনাম আছে এবং চাহিদা মিটিয়ে তা অন্য জেলাতেও যায়। শীতে মাছ ও সবজির তরকারিতে বড়ি ব্যবহার হওয়ায় এ সময় চাহিদা বাড়ে। সুজানগরের দোগাছি গ্রামের ঊষা রানী ভৌমিক প্রায় ৩০ বছর ধরে এ পেশায় আছেন। তিনি জানান, আগে শিল-পাটায় ডাল বাটতে সময় ও শ্রম বেশি লাগত; এখন মেশিনে ডাল ভাঙানোয় কাজ সহজ হয়েছে। সুজানগরের ঘোষপাড়ার রুকসানা বেগম বলেন, একজন কারিগর দিনে গড়ে ৩০ কেজি ডালের বড়ি বানাতে পারেন এবং সকাল ৯টার মধ্যে বড়ি রোদে দেওয়া সম্ভব হয়।

তবে ডালসহ কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে এবং লাভ কমেছে বলে জানিয়েছেন কারিগররা। তারপরও বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশা ধরে রেখে তাঁরা পাবনার বড়িকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিত করে তুলছেন।