বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তি

দশকের পর দশক শত্রুতা শেষে ‘স্থায়ী শান্তি’র ঘোষণা; তবে বিতর্ক ও ক্ষোভ রয়ে গেছে আর্মেনিয়ায়

Azaerbizan-Armenia peace treaty
ছবি: সংগৃহীত(মার্ক শিফেলবাইন/এপি)

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তি সই করেছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই চুক্তিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং উভয় দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট ২০২৫) ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান চুক্তি সই করেন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “এই ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষরের জন্য দুই মহান নেতাকে অভিনন্দন জানাই। আমি বিশ্বাস করি তারা একটি চমৎকার সম্পর্ক গড়ে তুলবেন এবং এই চুক্তি ককেশাসে শান্তি ও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ বয়ে আনবে।”

চুক্তি অনুসারে, দুই দেশ স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করবে, বাণিজ্য, ভ্রমণ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করবে এবং একে অপরের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে। পাশাপাশি উভয় দেশের মধ্যে একটি পরিবহন করিডোর চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া উন্নয়নাধিকারভুক্ত হবে। ট্রাম্প একে নাম দিয়েছেন “ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি”।

আলিয়েভ বলেন, “এটি দীর্ঘস্থায়ী, চিরস্থায়ী শান্তির সূচনা। আমাদের মধ্যে কেউ পিছু হটতে চাইলে আমরা এখানে আসতাম না।”

তবে এই চুক্তি নিয়ে আর্মেনিয়ার একাংশে ক্ষোভ রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে আজারবাইজানের সামরিক অভিযানে নাগোর্নো-কারাবাখের জাতিগত আর্মেনীয়দের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছিল, যা অনেকের কাছে জাতিগত নিধনের স্মৃতি জাগিয়েছে। আর্মেনিয়ান ন্যাশনাল কমিটি অব আমেরিকার নির্বাহী পরিচালক আরাম হামপারিয়ান বলেন, “নাগোর্নো-কারাবাখ মুছে ফেলা শান্তি নয়। জাতিগত নিধনকে স্বাভাবিক করা শান্তি নয়।”

দুই প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মধ্যে গত তিন দশক ধরে চলা বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল, যা আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হলেও একসময় প্রধানত জাতিগত আর্মেনীয়দের দ্বারা জনবসতিপূর্ণ ছিল।