ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকালে ভোট শুরুর পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেছে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে; আটকের একটি ঘটনা দানারহাট ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে সকাল ৮টা থেকে তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে। আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। পাঁচজন প্রার্থী লড়ছেন।
সকাল পৌনে নয়টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা অবশ্যই জয়।’ নির্বাচন নিয়ে তাঁর কোনো শঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আবহাওয়াজনিত কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার গলায় ঝোলানো পরিচয়পত্রে কোনো ছবি নেই; তিনি যত দূর শুনেছেন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কার্ডেও ছবি নেই। তাঁর প্রশ্ন, ছবি না থাকলে কীভাবে বোঝা যাবে যে ব্যক্তিটি আসলে তিনিই, অন্য কেউ তো প্রক্সি দিতে পারেন। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দ্রুত বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—এ প্রশ্নে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এটি পুরোটাই নির্ভর করছে সরকার ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর। তাঁরা ব্যর্থ হলে আগামীতে স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া বাকি তিন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের খাদেমুল ইসলাম তাঁর নিজ কেন্দ্র বড়গাঁওয়ে ভোট দিয়েছেন। খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি।