শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪৮ বন্দির সাজা যাবজ্জীবনে রূপান্তর করলেন গভর্নর নিউসম

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বৃহস্পতিবার রাজ্যের সব মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪৮ জন বন্দির সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে কার্যত অঙ্গরাজ্যটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অধ্যায়ের অবসান ঘটল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং প্যারোলে মুক্তির সুযোগ থাকবে না। একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা লাঘবের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই প্রথম বলে বলা হচ্ছে।

‘সব ক্যালিফোর্নীয়র উদ্দেশে’ লেখা এক খোলা চিঠিতে নিউসম বলেন, ‘আমি আমার সাংবিধানিক ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে ক্যালিফোর্নিয়ার সব মৃত্যুদণ্ডকে প্যারোলের সুযোগহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে হত্যার অনুমোদন ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক; এটি বিচারব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং সমাজের সামগ্রিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। প্রায় তিন দশক ধরে নির্বাচিত কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরোধিতা করে আসার কথাও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল এই অঙ্গরাজ্যে প্রায় দুই দশক ধরে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি, যদিও আদালত খুন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে এখনো এ সাজা দিয়ে থাকে। নিউসম আর কয়েক মাস পর গভর্নরের দায়িত্ব ছেড়ে যাবেন এবং ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস দৌড়ে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি জনসমর্থন গত কয়েক দশকে কমলেও এখনো অধিকাংশ মানুষ এর পক্ষে। মৃত্যুদণ্ডবিরোধীরা বলছেন, এ শাস্তির কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। এর বিপুল ব্যয়, বর্ণবৈষম্য এবং কার্যকরের সময় নানা অনিয়ম নিয়েও প্রশ্ন আছে। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, অথচ এ সময়ে মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্তত ২০৩ জন পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেয়েছেন।