শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

অপ্রতিম হত্যা: ৩১ দিনে অভিযোগপত্র, চার আসামির দুজন কিশোর

কুমিল্লায় আইফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় ১৩ বছরের অপ্রতিমকে হত্যার অভিযোগে দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ; সর্বোচ্চ শাস্তি চায় পরিবার।

কুমিল্লায় ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। আসামিদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর। মরদেহ উদ্ধারের ৩১ দিনের মাথায় গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয় বলে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানিয়েছেন।

প্রথম আলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করে লুৎফর রহমান বলেন, তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধেই অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। নয়া দিগন্ত, পদ্মা টাইমস ও আমার দেশও শুক্রবার খবরটি দিয়েছে। নয়া দিগন্ত অভিযোগপত্র দাখিলের দিন বুধবার উল্লেখ করলেও পুলিশের বরাতে প্রথম আলো ও আমার দেশ তারিখটি ২০ অক্টোবর লিখেছে।

অভিযোগপত্রে যা আছে

মামলাটি তদন্ত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং দুই কিশোরকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, তুহিন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত; পরিকল্পনায় সিয়ামও যুক্ত ছিলেন এবং সহযোগিতা করেছেন। সরাসরি হত্যায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তুহিন ও দুই কিশোরের বিরুদ্ধে। এই তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

তদন্তের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে তার আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়; ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং তার মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, এরপর মুঠোফোনটি নিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের ওই জঙ্গল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নয়া দিগন্ত জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়, তাঁর দেওয়া তথ্যে অন্যদের আটক করা হয় এবং তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের মুঠোফোন উদ্ধার হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দাবি, লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুর্গাপূজার ছুটির কারণে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি; পুলিশ সূত্র বলছে, রোববার আদালত খোলার কথা।

পরিবারের দাবি

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। মামলার বাদী তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ছেলেকে ঘিরেই তাঁদের বাঁচার স্বপ্ন ছিল; তিনি দ্রুত বিচার ও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান। নয়া দিগন্তকে তিনি বলেছেন, বয়সের সুযোগ নিয়ে আসামিরা যেন বেরিয়ে যেতে না পারে।

প্রথম আলো জানিয়েছে, দুই কিশোরের বয়স নিয়ে শুরু থেকেই পরিবারের প্রশ্ন ছিল এবং প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি হাতে পেয়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করার কথা ভাবছে পরিবার।