শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

সাজেকে ১০ দিনের অবরোধ রোববার এক দিনের জন্য শিথিল, সোমবার থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি

কঠিন চীবর দানোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপনের কথা বিবেচনায় নিয়ে অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত দুটি সংগঠন।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের পর্যটন সড়কে টানা ১০ দিন ধরে চলা অবরোধ কর্মসূচি এক দিনের জন্য শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত দুটি সংগঠন। আগামীকাল রোববার অবরোধ শিথিল থাকবে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা ও ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠন দুটি জানিয়েছে।

শুক্রবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সই করেন বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল থাকবে এবং পরদিন থেকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ আবার চলবে।

সাজেকে চলমান বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে সংগঠন দুটি। তারা জানায়, উৎসব উদ্‌যাপনে আলোচনা সাপেক্ষে বিশেষ শিথিলতার ব্যবস্থা থাকবে।

গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। এটি দুই সংগঠনের তৃতীয় দফা অবরোধ। সংগঠন দুটির অন্যতম দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা-সমর্থিত জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। জেএসএস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন রয়েছে।

আন্দোলনের সূচনা ১১ অক্টোবর, সেদিন তিন দাবিতে এক দিনের অবরোধ পালিত হয়। ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ডাক দেওয়া হলেও শারদীয় দুর্গাপূজার কারণে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত ছিল। ২১ অক্টোবর অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণার পর নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। ২২ অক্টোবর সকাল থেকে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন। ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় গোলাগুলি হয়; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন। ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।