বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি মিলছে না—এমন অভিযোগের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রয়ের চার্জ এবং কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাব পর্যালোচনায় রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম মিলনায়তনে গণশুনানি শুরু করেছে বিইআরসি। প্রস্তাব অনুমোদন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
দামের ব্যবধান
১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১,৮৩৭ টাকা। অথচ কোথাও কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়; অর্থাৎ ভোক্তাকে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪৬৩ থেকে ৬৬৩ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। শুনানিতে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির পক্ষে অধ্যাপক সৈয়দ মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, দাম বাড়িয়ে গত এক মাসে ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পাঁচটি কোম্পানির বিরুদ্ধে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তুলেছিল এবং এর ভিত্তিতে বিইআরসি কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল। কিন্তু পরে সেগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে এ ঘটনায় খুচরা বিক্রেতাদের মাত্র ১১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এত বিপুল অতিরিক্ত আদায়ের বিপরীতে এমন সামান্য জরিমানায় কি সেই অর্থ আদায় বৈধ হয়ে যায়—প্রশ্ন তুলে তিনি গণশুনানি বর্জনের ঘোষণা দেন।
শুনানিতে যা হলো
শুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং সদস্য আব্দুর রজ্জাক, মো. মিজানুর রহমান ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহিদ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন। এলপিজি আমদানিকারকেরা বর্তমান কমিশন দুই থেকে আড়াই গুণ এবং পরিবেশকেরা তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। ভোক্তাদের প্রতিনিধিরাও নানা প্রশ্ন তোলেন। তবে এসব প্রশ্নের অনেকগুলোর সন্তোষজনক জবাব মেলেনি, ফলে আমদানিকারক ও বিইআরসি কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়ে।