যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি আরব উপসাগরীয় দেশকে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে ‘সংক্ষিপ্ত ও তীব্র সামরিক অভিযানের’ প্রস্তুতি নিতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদপত্র মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলে দেওয়া এসব বার্তা এমন ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিতের অংশ, যাতে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে দুর্বল করে আলোচনার টেবিলে আনতে নতুন দফায় ব্যাপক সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টেক্সাস থেকে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এই অঞ্চলে সরাচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়েছে এবং গোলাবারুদ মজুত করে বোমারু ও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করছে। আগামী মাসে আরও একটি বিমানবাহী রণতরি দল ও একটি মেরিন অভিযানকারী ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রায় ২০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগ দেবে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে ইরানের অবকাঠামো ও পরমাণু স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একটি ‘বড় নির্বাচনোত্তর হামলা’র দিকে ঝুঁকছেন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের বরাতে এ কথা বলা হয়েছে। হোয়াইট হাউস ‘সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা, যা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে’ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, ইরান যেন কখনো পরমাণু অস্ত্র না পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট সব বিকল্প খোলা রেখেছেন।
টেক্সাসের লাবকে এক নির্বাচনী সমাবেশে মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে দেখতে পাবেন, কিছু মনে না করলে।’ তিনি দাবি করেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে এবং সবকিছু খুব শিগগিরই শেষ হবে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা করবেন না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জবাবে তেহরান এই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ। জুনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।