রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হত্যা: মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনের বসতঘরে আগুন, গ্রেপ্তার ৯

জানাজা শেষে ফেরার পথে আলামদী গ্রামে প্রধান আসামি সজল মোল্লা ও তাঁর বড় ভাইয়ের বাড়ি এবং তাঁদের বাবার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়; এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি।

বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে (৩৭) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামিদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানান, শনিবার এশার নামাজের পর নিজ বাড়িতে কাওসারের জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ফেরার পথে আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় সেতুসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়ি, তাঁর বড় ভাই নান্না মোল্লার বাড়ি এবং তাঁদের বাবার ঘরসহ মোট তিনটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সাতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কাইয়ুম ভাট্টি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহাগ জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে।

খবর পেয়ে উজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট রওনা হয়ে সাতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালেও রাস্তা সরু হওয়ায় ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ ছিল না, ফলে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘর তিনটি পুরোপুরি পুড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। ওসি জানান, আসামিরা পলাতক। কারা আগুন দিয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

এর আগে শুক্রবার রাতে উজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলাকান্দি সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওসার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মাইক্রোবাসে করে আসা একদল ব্যক্তি এ হামলা চালায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই বছর আগে সাতলায় সংঘটিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের বিরোধের জের ধরে কাওসারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশের তদন্ত চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক আজিজ জানান, শনিবার দুপুরের পর নিহতের ভাই মোস্তফা বাদী হয়ে সজল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় মাইক্রোবাস ও ধারালো অস্ত্রসহ এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। মামলার আসামিরা অভিযুক্ত মাত্র; আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।