যশোরের চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানখেতে ঘন ঘন কীটনাশক প্রয়োগের কারণে বাতাসে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে কৃষিজমির আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে অস্বস্তি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ধানখেতে পোকার আক্রমণ বেড়েছে, তাই ফলন রক্ষায় তাঁরা বালাইনাশক দিচ্ছেন। স্বরূপদাহ গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ধান রোপণের প্রায় ৪০ দিন পর থেকে জমির অবস্থা ও পোকার আক্রমণ বুঝে বালাইনাশক দিতে হয়; জমিভেদে কেউ সপ্তাহে একবার, কেউ দুই সপ্তাহে একবার ছিটান। সময়মতো পোকা দমন না করলে ফলন কমার আশঙ্কা থাকে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, সকাল ও বিকেলে খেতে কীটনাশক ছিটানোর সময় জমির পাশ দিয়ে যাতায়াত করতে অনেককে নাক-মুখ ঢেকে চলতে হয়। আন্দারকোটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ঘন ঘন প্রয়োগের কারণে আশপাশের এলাকায় তীব্র গন্ধ ছড়াচ্ছে। মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ড. আবদুস শুকুর বলেন, শিশু, বয়স্ক ও পথচারীরা অস্বস্তিতে পড়ছেন এবং দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ আছে।
চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক সোলাইমান হোসেন ও আবু তালেব জানান, কীটনাশক প্রয়োগের সময় মাঝেমধ্যে হাত, চোখ ও মুখে জ্বালাপোড়া হয়, পানিতে ধুলে তা কমে যায়। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ ধরনের উপসর্গ অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
চৌগাছা কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. আলা উদ্দীন বলেন, পোকা দমন জরুরি হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় বালাইনাশক প্রয়োগ সমাধান নয়; নির্ধারিত মাত্রা, উপযুক্ত সময় ও সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করা প্রয়োজন।
স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম ও শ্যামল বিশ্বাস জানান, তাঁরা কৃষকদের ব্যবহারবিধি ও সতর্কতা সম্পর্কে পরামর্শ দেন এবং পণ্যের মোড়কেও প্রয়োগবিধি লেখা থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন বলেন, ধানখেতে মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হতে পারে, তবে পোকা দেখা দিলেই অতিরিক্ত কীটনাশক দেওয়া উচিত নয়। জমির অবস্থা ও পোকার উপস্থিতি বিবেচনায় ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষকদের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে এবং জৈব বালাইনাশক ও আলোক ফাঁদের মতো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।